ফজর জামাত মিস না হওয়ার কার্যকর টিপস!
সুপ্রিয় দর্ষক শ্রোতা ও ভাই-বোন, ফজরের সালাত ৫ ওয়াক্ত সালাতের মধ্যে অনেক কারনে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ সালাত। মুনাফিকদের জন্য ফজরের সালাতে জমাতে উপস্থিত হওয়া অনেক বেশি কঠিন, হাদিস থেকে সেঠি বোঝা যায়। ফজরের সালাতে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য রয়েছে যা অন্য সালাতে নেই। আমাদের অনেক স্মানিত ভাই আছেন যারা ফজরের সালাত মসজিদে জামাতের সাথে পড়তে পারেন না, অথচ তারা অন্য ওয়াক্তের সালাতগুলো মসজিদে জামাতের সাথে পড়ে থাকেন।
ফজরের সালাত কেন এত কষ্টকর আমাদের জন্য? এর সবচেয়ে বেশি কারণ হলো শয়তান জানে যে ফজরের সালাতে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে আমরা খাটি মুসল্লি হতে পারব, খাটি ঈমানদার হতে পারব, সমাজে সবচাইতে খাটি ঈমানদার গুলোর অন্যতম একটা বৈশিষ্ট্য হল তারা ফজরের সালাত জামাতের সাথে আদায় করতে পারে পুরুষদের বেলায়। ত এই বিষয়টি যাতে আমাদের অর্জিত না হয় সয়তানের নানা মুখি পদক্ষেপ এবং চেলেঞ্জ থাকে। নবী (সাঃ) বলেছেন- ওরা যখন সুয়ে পরে তার কপালে ৩টি গিরা দেয় সয়তান, আর গিরাগুলি দেওয়ার উদ্যেশ্য হল যাতে সে অলস হয়ে শুয়ে পরে।
দেখবেন ফজরের আগ মূহর্তে গুম হয় খুব গবির, ভাড়ি ঘুম, যার সারা-রাত ঘুম হয় না ছট-পট করে ঐ বৗক্তিরও ফজরের আগমূহর্তে খুব ভারি ঘুম হয়, খুব আরামের ঘুম হয় এবং এত বেশি আরামের ঘুম হয় ঐ মূহর্তে তার জন্য উঠাটা খুবই কষ্টকর হয়। অন্য কোন সময় ঘুমালে এত কষ্ট হয় না ফজরের সময় যত কষ্ট হয়, কারণ হল ঐ যে সয়তান ঘিরা দিয়ে রাখে, অলস করে রাখে, আরামের ঘুম পারিয়ে রাখে আর এই জন্য একজন ঈমানদারের অন্যতম বড় চেলেঞ্জ হবে সারাদিনের যে তিনি ফজরের সালাত জামাতের সাথে আদায় করবেন।
আর বিষয়টি সহজ হতে পারে সুন্নাহ লাইফ স্টাইল ফলো করার মাধ্যমে, অর্থাৎ রাতের খাবার এশারের আগে খেয়ে ফেলা, এটি সুন্নাহ। এটি যদি আপনি করেন ইনশাআল্লাহ তাইলে খাবারের জন্য যে একটি সময় ব্যয় করতে হয় এশারের পরে সেটি আপনাকে আর করতে হবে না। আপনি তারা-তারি শুয়ে পরতে পারবেন।
আর এর বাইরে এশারের পর আমাদের যে ব্যস্থতা গুলি থাকে সে ব্যস্থাতগুলি থেকে যদি আমরা এশারের আগে অপসর হয়ে নিতে পারি ইনশাল্লাহ আমাদের জন্য ফজরের সালাত আদায় করা অনেক বেশি সহজ হয়ে যাবে। নবী (সাঃ) এশারের পর কথা-বার্তা বলা, আড্ডা-বাজি করা এবং অন্য আলাপ চারিতায় মশগুল হওয়া এগুলোকে অপছন্দ করতেন। আম্মাজান আয়েশা রাঃ বলেছেন এশারের পর কথা-বার্তা বলতে নবী (সাঃ) নিষেধ করেছেন। কারণ এশারের পর দ্রুত শুয়ে পরলে ফজরের সময় উঠে জামাতে শরিক হওয়া সহজ হয়।
রাতে তারা-তারি শুয়ে পরলে আমাদের শরীরের জন্য ভালো, আমাদের শরীরের ইমিউন সিসটেম অনেক বেশি শক্তিশালী হয়, ডাক্তার রা বলছেন, আর সবচেয়ে বড় উপকারিতা হল এর মাধ্যমে ফজর নামাজ ইনশাআল্লাহ অতি দ্রুত আমরা পড়তে পারব। এছাড়া ফজরের সালাত যথাযথ ভাবে আদায় করার বিকল্প আর কোন পথ খোলা থাকতে পারে না।
আপনি রাতে দেরি করে যদি শোন, ফজরের সালাত জামাতের সাথে পড়েনও সে পড়াটা হবে ঘুম-ঘুম ভাব নিয়ে, এটা সালাতের জন্য কখনও মানান সই নয়। আপনার সালাত যথাযথ ভাবে হউক, পূর্ণ মনোযোগের সাথে হউক, ফ্রেশনেস এর সাথে হউক আপনি চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই রাতে তারা-তারি শুয়ে যেতে হবে। এটি এখন একটি মহা চেলেঞ্জ হয়ে দারিয়েছে, আমরা যারা প্রাকটিস করার চেষ্টা করছি তারাও রাতে ১২টি ১টা ২টা বাজিয়ে ফেলি ঘুমাতে ঘুমাতে, এই অভ্যাসটি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তৌফিক দান কুরুক।
এই জন্যই সুন্নাহ লাইফ স্টাইল টা ফলো করতে হবে। আমাদের এশারের আগে আগে সব কাজ সারতে হবে। এশারের পরে যদি আপনি কোন টকশো দেখেন, কোন ভিডিও ক্লিপ দেখেন, তাহলে আপনি সে জগতে ব্যস্থ হয়ে পরবেন। আপনার ব্রেইন ব্যস্থ হয়ে পরবে। ঘুমের যে একটি পরিবেশ আপনার শরীরে সেটি থাকবে না। এর পরে ঘুমের পরিবেশ আসতে যথেষ্ঠ সময় লাগবে। অনেকে বলেন এশারের পর শুয়ে পরি খুব তারা-তারি কিন্তু ঘুম আসে না, এটির না আসার একটি কারণ হলো যে দীর্ঘ দিনের বদ অভ্যাস, আপনি কয়েক দিন প্র্যাকটিস করলেই ইনশাআল্লাহ সহজ হবে।
আরেক টি বড় কারণ হলো এইযে ঘুমানোর আগে আমরা মোবাইলে টিপা-টিপি করি , বিভিন্ন টেলিভিশনের প্রোগ্রাম দেখি এর পর ঘুমাতে যাই। যার ফলে হয়কি আমাদের মসতিস্কটা ব্যস্থ হয়ে পরে সে সমস্থ ইসু গুলোর কারনে, এর পর ঘুমের পরিবেশ আসে না। এই জন্য এশার পরে এ সবগুলোতে আমরা ব্যস্থ না হয়ে এগুলো থেকে দূরে সরে আসার চেষ্টা করব। তাহলে আমাদের তারা-তারি ঘুম আসবে এবং ফজরের সময় উঠতে সহজ হবে, তাছাড়া মোবাইলে এলার্ম এর ব্যবস্থাতো আছেই।
এজন্য আল্লাহ বলেছেন- যে আমার রাস্থায় আসার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে আমি তাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই বহুমুখী বথ দেখাবো আমার পথে আসার জন্য। ( সূরা- আনকাবুত-৬৯)। আপনি যদি সুন্নাহ লাইফ স্টাইল ফলো করেন, এলার্ম এর ব্যবস্থা করেন, এশার পরি ফেসবুক, মোবাইল টিপা-টিপি এসকল জিনিসে ব্যস্থ না থাকেন, শুয়ার পরিবেশ তৈরি করেন ইনশাল্লাহ ফজরের সালাত পড়া আপনার জন্য একদম সহজ হবে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ফজরের সালাত আদায় করার যে বড় চেলেঞ্জ এ চেলেঞ্জকে মোকাবেলা করা এবং সফলতা অর্জন করার তৈৗফিক দান করুন, শয়তানকে পরাসত করে জান্নাতের দিকে অগ্রসর করুন। যাজাকাল্লাহ খায়ের।
আরও দেখুন - মিছে দুনিয়া গজল